Thursday 15 July 2010

সাইয়েদ কুতুবের কারাবরণ ও শাহাদাত

১৯৪৫ সালে জামাল আব্দুন নাসের ও ইংরেজদের মধ্যে চুক্তি হয়। ইখওয়ান ‘ইঙ্গ মিশর’ চুক্তির বিরোধিতা করে। ফলে ইখওয়ান কর্মীদের উপর চালানো হয় দমন, পীড়ন ও নির্যাতন। কয়েক সপ্তাহের মধ্যে পঞ্চাশ হাজার নেতা-কর্মীকে কারাবন্দী করা হয়। এর মধ্যে ছয়জন কেন্দ্রীয় নেতা ছিলেন। তাঁদের মধ্যে সাইয়েদ কুতুবও ছিলেন। সে সময় তিনি ছিলেন জ্বরে আক্রান্ত। তিনি অসুস্থতায় বিছানায় কাতরাচ্ছিলেন। একজন সামরিক অফিসার ঘরে ঢুকলেন। তার সাথে ছিল অনেক সশস্ত্র সিপাহী। তারা রোগশয্যায় শায়িত সাইয়েদ কুতুবের হাতে ঐধহফ ঈঁঢ় পরিয়ে তাঁকে কারাগারের দিকে নিয়ে চললেন। তাঁকে কোন গাড়িতে না চড়িয়ে পায়ে হেঁটে যেতে বাধ্য করা হল। অত্যধিক অসুস্থতার কারণে রাস্তায় চলার পথে তিনি বারবার অজ্ঞান হয়ে পড়েন। হুঁশ ফিরে এলে মুখে উচ্চারিত হতো ইখওয়ানের প্রিয় স্লোগান ‘আল্লাহু আকবর ওয়া লিল্লাহিল হামদ।’ কারাগারের ভিতর প্রবেশের সাথে সাথে হিংস্র হায়েনার দল তাঁর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। দু’ঘণ্টা যাবৎ জেলের অন্ধকার কক্ষে অমানবিক নির্যাতন চালানো হয়। তাঁর উপর এক ভয়ংকর কুকুর লেলিয়ে দেওয়া হয়। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কুকুরটি সাইয়েদ কুতুবের পায়ে কামড় দিয়ে টেনে হেঁচড়ে এদিক সেদিক নিয়ে যায়। এরপর তাঁকে একটি নির্জন কক্ষে নিয়ে যাওয়া হয়। সাইয়েদ কুতুব নির্যাতনে ক্ষত-বিক্ষত। তার শরীর থেকে রক্ত ঝরছে। এমন অবস্থার পরও তাকে রিমান্ডে নিয়ে একের পর এক বিভিন্ন প্রশ্ন করা হয়। দীর্ঘ সাত ঘণ্টা যাবৎ প্রশ্ন পর্বের মাধ্যমে মানসিক নির্যাতন করা হয়। এই ধরনের নির্যাতনের ফলে সাইয়েদ কুতুব শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়লেও মানসিকভাবে ছিলেন খুবই সবল। ঈমানী বলে তিনি ছিলেন বলীয়ান। কখনো নির্যাতনের সীমা বৃদ্ধি পেলে তিনি মুখে উচ্চারণ করতেন ‘আল্লাহু আকবর ওয়া লিল্লাহিল হামদ।’ রাতে তাকে একটি অন্ধকার প্রকোষ্ঠে রাখা হতো। সকাল বেলা খালি পায়ে প্যারেড করতে বাধ্য করা হতো। এভাবে অমানুষিক নির্যাতনে তার বুকের ব্যথা, ঘাড়ের ব্যথাসহ সকল অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে ব্যথা-বেদনার সৃষ্টি হয়। তিনি নানা ধরনের রোগে আক্রান্ত হন। যার ফলে ১৯৫৫ সালের ২ মে তাকে সামরিক হাসপাতালে পাঠানো হয়। সাইয়েদ কুতুবের শিষ্য ইউসুফ আল আযম লিখেছেন- “সাইয়েদ কুতুবের ওপর বর্ণনাতীত নির্যাতন চালানো হয়। আগুন দ্বারা সারা শরীর ঝলসে দেওয়া হয়। পুলিশের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কুকুর লেলিয়ে দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থান রক্তাক্ত করা হয়। মাথার ওপর কখনো উত্তপ্ত গরম পানি ঢালা হতো। পরক্ষণে আবার খুবই শীতল পানি ঢেলে শরীর বরফের ন্যায় ঠান্ডা করা হতো। পুলিশ লাথি, ঘুষি মেরে একদিক থেকে অন্যদিকে নিয়ে যেত।



এমনও হয়েছে যে একাধারে ৪ দিন একই চেয়ারে বসিয়ে রাখা হয়েছে; কোন খানাপিনা দেয়া হয়নি। তাঁর সামনে অন্যরা পানি পান করতো অথচ তাঁকে এক গ্লাস পানি দেওয়া হতো না। সাইয়েদ কুতুবের ওপর এইভাবে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন সত্ত্বেও তিনি সময় পেলেই জেলে দাওয়াতী কাজ করতেন। ইখওয়ানুল মুসলিমীন নিয়ে ভাবতেন ও বিভিন্ন পরিকল্পনা করতেন। তিনি ঈমানী চেতনায় এত বেশি উদ্দীপ্ত ছিলেন যে, কোন সময়ই অন্যায়ের সাথে আপোষ করতে চাননি। কারাগারে যাওয়ার ১ বছর পরই সরকারের পক্ষ থেকে প্রস্তাব দেওয়া হয় যে, ’’যদি আপনি ক্ষমা চেয়ে কয়েকটি লাইন লিখে দেন, যা বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশ করা হবে, তাহলে আপনাকে মুক্তি দেওয়া হবে। আপনি জেলের কষ্টকর জীবন থেকে মুক্তি পেয়ে ঘরে আরামে থাকতে পারবেন’’। উক্ত প্রস্তাব শুনে সাইয়েদ জবাব দিলেন- “আমার অবাক লাগে যে, এ সকল লোকেরা মযলূমকে বলছে যালিমের কাছে ক্ষমা ভিক্ষা চাইতে। আল্লাহ্‌র শপথ! যদি কয়েকটি শব্দ উচ্চারণের ফলে আমাকে ফাঁসির মঞ্চ থেকে নাজাত দেয় তবু আমি তা বলতে প্রস্তুত নই। আমি আমার রবের দরবারে এমনভাবে হাজির হতে চাই যে, আমি তাঁর উপর সন্তুষ্ট আর তিনি আমার উপর সন্তুষ্ট।”জেলখানায় যখনই তাকে ক্ষমা চাইতে বলা হত, তিনি বলতেন- “যদি আমাকে কারাবন্দী করা সঠিক হয়, তাহলে সঠিক সিদ্ধান্তের উপর আমার সন্তুষ্ট থাকা উচিত। আর যদি অন্যায়ভাবে আমাকে কারাগারে আটক রাখা হয়, তাহলে আমি যালিমের কাছে করুণা ভিক্ষা চাইতে রাজি নই।”এরপর সরকারের পক্ষ থেকে টোপ দেয়া হয়, তিনি যদি সম্মত হন তাহলে তাকে শিক্ষা মন্ত্রণায়ের দায়িত্ব দেয়া হবে। সাইয়েদ এ প্রস্তাব শুনে প্রতিক্রিয়ায় বলেন- “আমি দুঃখিত। মন্ত্রীত্ব গ্রহণ আমার পক্ষে সে সময় পর্যন্ত সম্্‌ভব নয়, যতক্ষণ না মিসরের পুরো শিক্ষাব্যবস্থাকে ইসলামী ছাঁচে ঢেলে সাজাবার এখতিয়ার দেয়া না হবে।

সাইয়েদ কুতুবকে ‘তাররা’ কারাগারে রাখা হয়েছিল। সেখানে ইখওয়ানের আরও ১৮৩ জন কর্মী ছিল। তাদের সাথে পরিবার পরিজনকেও দেখা করতে দেয়া হত না। একবার ‘আব্দুল্লাহ্‌ মাহের’ ও ‘আব্দুল গাফফার’ নামক দু’জন ইখওয়ান কর্মীকে তাদের আত্মীয়-স্বজন দেখতে আসেন। কিন্তু তাদের সাথে আত্মীয়দের সাক্ষাতের সুযোগ দেয়া হয়নি, বরং তাদের দেখতে আসার শাস্তিস্বরূপ কারাগারে আটক রাখা হয়। কারাবন্দী ইখওয়ান কর্মীরা উক্ত অমানবিক ঘটনার প্রতিকার চেয়ে কারা তত্ত্বাবধায়কের নিকট আবেদন জানান। কিন্তু ফল হল উল্টো। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশে কারাগারে অস্ত্রে সুসজ্জিত সৈন্যরা প্রবেশ করে। সৈন্যরা অগ্নিগোলা বর্ষণ করতে থাকে। ঘটনাস্থলেই ২১ জন ইখওয়ান কর্মী শাহাদাত বরণ করেন, ২৩ জন মারাত্মক আহত হন। রক্তে রঞ্জিত হয় তাররা কারাগার। এ ঘটনার পর মন্ত্রী পরিষদের সচিব সালাহ দাসুফী তদন্তে আসেন। তদন্তে কি হয় এ ভয়ে সকলেই তটস্থ হয়ে পড়ে। না, যাদের গুলিতে রক্তের স্রোত বইছে তাদের কিছুই হয়নি। ইখওয়ান কর্মীদের উপর কড়া নজর রাখার নির্দেশ দিয়ে চলে গেলেন যালিম সরকারের সচিব মহোদয়।

আল্লাহ্‌ সাইয়েদ কুতুবকে এক বিরাট যাদুকরী সম্মোহনী শক্তি দিয়েছিলেন। কারাগারের সকলেই তাঁকে শ্রদ্ধা করতো, সম্মান করতো। তাঁর কাছে সকল কথা খুলে বলতো। কারাগারের বিভিন্ন বিষয় তিনি মীমাংসা করতেন। হাজতী, কয়েদীদের পরস্পরে ঝগড়া হলে তিনি বিচার করতেন। তাই তাঁকে উপাধি দেয়া হয় ‘কাজী উস সিজন’ -কারাগারে বিচারপতি। যখন কোন কয়েদীকে অন্য স্থানে স্থানান্তর করা হত তিনি তাকে বিদায় দিতেন। তাঁকে খাবারের কোন কিছু দেয়া হলে তা অন্যদের মাঝে বিতরণ করতেন। জেল সুপার, জেল ডাক্তার সবাই তাকে ভালবাসতো। তিনি কারাবন্দীদের খোঁজ-খবর রাখতেন। এমনকি কারাগারে যেসব প্রাণী থাকতো, তিনি তাদেরও যত্ন নিতেন, খাবার দিতেন। তিনি তাঁর আচরণে সবার মন জয় করেন। একবার তিনি অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন ছিলেন। কারাসঙ্গী অন্যরা তাঁর খিদমত করতেন। তিনি হাসপাতাল আঙ্গিনায় অন্যদের সাথে খোশ-গল্প করতেন। তিনি ছিলেন খুবই ধৈর্যশীল। ইখওয়ান নেতৃবৃন্দ পরামর্শের জন্য কারাগারে গেলে স্বাভাবিকভাবেই পরামর্শ দিতেন। কখনও কখনও ছোট বোন হামিদা কুতুবের মাধ্যমে পরামর্শ পাঠাতেন। সাইয়েদের কারাজীবনে মানসিকতার কোন পরিবর্তন ঘটেনি। একবার আদালতের কাঠগড়ায় তিনি দাঁড়ানো। তাঁর ভাই-বোনেরা তাঁকে দেখতে এসেছেন। সবাইকে দেখে তিনি মুচকি হাসলেন। আল্লাহ্‌র কাছে দোয়া করলেন এবং ধৈর্যের উপদেশ দিলেন।


Thursday 20 May 2010

৭১ এবং ২০১০ পরবর্তী আওয়ামীলীগ: হত্যা, খুন আর নির্যাতনের ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি

আমি ইতিহাসের ছাত্র নই কিন্তু ইতিহাস জানাটা আমার নেশা বহুদিন ধরেই ভাবছিলাম, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ এবং এর পরবর্তী সময়ের সঠিক ইতিহাস জানতে হবে তাই ছুটি পেলেই আমার বন্ধু কাউকে নিয়ে বেরিয়ে পড়ি কিছু জানার আশায়্ আমি গত এক বছর যাবত চেষ্টা করেছি বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সঠিক ইতিহাস একদম মানুষের মুখ থেকে শুনতে এই জন্য আমি বিভিন্ন বয়সি বৃ্দ্ধ মানুষদের কাছ থেকে জেনেছি কি ঘটেছিল একাত্তরে সত্যতা যাচাই বাছাইয়ের জন্য আমি বিহারী পল্লীতে ও গিয়েছি তাদের সাথে কথা বলতে যেয়ে সম্মুখিন হয়েছি অনেক প্রতিবন্ধকতার এই সাক্ষাতকার গুলো নিয়ে নতুন প্রজন্মের কাছে একটা সত্য ইতিহাস তুলে ধরার ইচ্ছা আছে অনেক লোমহর্ষক কাহিনী আর অজানা ইতিহাস আছে তাদের বুকের মধ্যে লুকিয়ে যদি বেচে থাকি তাহলে আপনাদের সাথেও শেয়ার করতে পারব এসব ইতিহাস ইনশাহআল্লাহ

গত মাসে পাবলিক লাইব্রেরীতে গিয়েছিলাম স্বাধীনতার বিষয়ক ভাল কোন বইয়ের আশায় সেখানের এক চাচার কাছে জিগাসা করলাম, " চাচা মুক্তিযুদ্ধের একটা ভাল বইয়ের নাম বলেন তো চাচা, কোন কথাই বলেনা শেষ পর্যন্ত একটা সাইড দেখায় বলে এখানে অনেক বই আছে যেটা ভাল মনে করেন পড়েন

আমি চার পাচটা বই নিয়ে নড়া চড়া করছিলাম খুব হাসি পাচ্ছিল এক একজন লেখক ইতিহাস টাকে একভাবে লিখেছেন আমাকে খেয়াল করছিলেন পাশে বসা এক মাঝ বয়সী ভদ্র লোক তিনি দেখে বললেন বাবা কিছু খুজছেন নাকি? আমি মজা করার জণ্য বললাম, চাচা সারা দেশে ছাত্রলীগ কি করছে দেখেনআমি তো ৯৬ আর ২০১০ নিজের চোখে দেখেছি দেখছি ৭১ এর পরবর্তী আওয়ামীলিগ কেমন ছিল তিন সম্ভবত আমার আগ্রহ বুঝতে পেরেছিলেন

তার কাছ থেকে যেই বইয়ের নাম পেলাম সেটা পড়ে আমার গাযের লোম খাড়া হয়ে যাচ্ছে আপনাদের সাথে সেটা্র উ কয়েক লাইন আজকে শেয়ার করব আহমদ মুসা রচিত ইতিহাসের কাঠ গড়ায় আওয়ামীলীগ" বেইটির পাচ নম্বর পাতায় মাওলানা ভাসানীর হক কথা পত্রিকার একটি রেফেরন্স এসছে যেখানে ভাসানী বলছেন"আমাদের দেশে একটি বিদেশী সংস্থা কাজ করছে যাদের লক্শ হল এদেশের সোয়া লাখ বাম কর্মীকে হত্যা করা"



তোফায়েল-রাজ্জাক আর মনির নেতৃত্বাধীন মুজিববাহিনী আর রক্ষীবাহিণী তো সাধারন মানুষের কাছে পাক বাহিণীর চেয়েও ভয়ানক ছিল তারা টাইগার হোল নামক একটা গর্ত করত সেখানে কোন আলো বাতাস ঢুকতনা সাধারন মানুষকে সেখানে রেখে তারা নির্যাতন করত

" ++ কিশোর গন্জের বাজিতপুর ছিল এক সাক্ষাত মৃত্যুপুরি সেখানে ১২৬ জন সাধারন মানুষকে হত্যা করেছিল মুজিব বাহিনী আর রক্ষী বাহিনী
+++ পিরোজপুরে তাদের কথা না শুনায় গায়ে কম্বল পেচিয়ে কেরোসিন ঢেল আগুন ধরিয়ে দেয় আমেনা নামক এক মহিলাকে বালিগায়ে আকবর নামক এক লোককে ধরতে না পেরে সীমাহীন নির্যাতন করে তার মা কে
++++ ইকোরাটিয়ায় রশিদ নামক এক লোককে তারা প্রথমে গুলি করে হত্য করে তারপর তার বাবার হাতে কুঠার ধরিয়ে দিয়ে বলে তার ছেলের মাথা কেটে দিতে তাদের কথা না শুনায় সীমাহিন নির্যাতন করে তারা তার বাবার উপর শেষে বাধ্য হয়ে নিজ হাতে ছেলের মাথা কাটে রশিদের বাবা পরে সেই মাথা দিয়ে ফুটবল খেলে মুজিব আর রক্ষী বাহিনীর বীর সদস্য রা

এরকম আর বহুত ঘটনা আছে যেগুলো পর্যায় ক্রমে ইনশাহআল্লাহ প্রকাশ করা হবে

"" বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন বয়োবৃদ্ধদের মুখে মুক্তিযুদ্ধের জীবন্ত ইতিহাসের ভিডিও ক্লিপগুলো ইউটিউবের মাধ্যমে প্রকাশ করা হবে""

চলবে............................

Thursday 22 April 2010

মুক্তিযুদ্ধ ও আমাদের প্রাপ্তি

১৯৭১ সালের ২৫ শে মার্চ পাকিস্তান সামরিক আইনের অধীন অপারেশন সার্চ লাইট চালায়। এইরুপ মিলিটারী অপরাশেন ইন্দিরাগান্ধীও ১৯৮৪ সালের জুন অপারেশন ব্লু স্টার চালিয়েছিলেন তাতেও হাজারো সিভিলিয়ানকে হত্যা করা হয়। ভারতে এই জাতীয় আর্মি অপারেশন এখন চলছে, আমি বলিয়াছিলাম, পাকিস্তানী সামরিক প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তটি বা পরিকল্পনাটি ভুল ছিলো। শুধু তাই নয়, পাকিস্তানী সেনা মোতায়েন যে বাংলাদেশের বৃদ্ধি হচ্ছে তা কারো অজানা ছিলো না। কাজেই এই পরিকল্পনা না করিলে, মানে ২৫মার্চের হত্যাযজ্ঞ না চালাইলে পাকিস্তানের ক্ষমতা পাঞ্জাবীদের হাত থেকে বাংগালীদের হাতে চলে আসতো। আর যেহেতু যুদ্ধ ১৯৭০ সালের নির্বাচনের ফলাফলের না মানার জন্য শুরু হয়েছিলো, কাজেই যুদ্ধে বাংগালীরা জিতলে পুরো পাকিস্তানের নামই পরিবর্তন করে বাংলাদেশ হওয়া উচিত ছিলো। এর অর্থ পাকিস্তান নামটিই মানচিত্রে থাকার কথা নয়। আর তাই, ১৬ ডিসেম্বরের চুক্তির দিনে, বাংলাদেশের পক্ষ না থাকাটার মানে বাংগালীর মুক্তিযুদ্ধকে অস্বীকার করেছিলো বিশ্ব-রাজনীতি। সেই চুক্তি ছিলো ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে, এবং কায়দা করে কোন দেশের পতাকাও রাখা হয়নি সেই চুক্তি সময়ে। আর আওয়ামী লীগ???? দেশে প্রায় ৭০ হাজার গ্রাম। প্রতি গ্রাম থেকে ৫ জন আওয়ামী সমর্থক সরাসরি মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহন করলে মুক্তিযুদ্ধের সংখ্যা কমপক্ষে ৩৫০হাজার হতো। অথচ সরাসরি মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা মাত্র ৭০ থেকে ৯০ হাজার। আওয়ামী লীগ ১৯৭২-৭৫ সালে মুক্তিযুদ্ধের সার্টিফিকেট বিক্রি করে আর্থিক-ব্যবসা করেছে এবং এখনও রাজনৈতিক ব্যবসা করতে চাইছে।
রাজাকার ইস্যু নিয়ে আওয়ামী লীগ রাজনীতি করতে চাইছে। আওয়ামী লীগের মুখোশটা খুলে দিতে চাইছি। আমি বলতে চাইছি,বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ৭০ থেকে ৯০ হাজার সরাসরি মুক্তিযুদ্ধ করেছে, এরা মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন, এরাই প্রকৃতপক্ষে স্বাধীনতার স্বপক্ষ শক্তি। সেই হিসাবে, ৬৮হাজার গ্রামের বাংলাদেশের প্রতিটি গ্রামের ১ বা ২ টি পরিবার মুক্তিযুদ্ধের সাথে সরাসরি জড়িত, অন্যেরা নীরব/সরব সমর্থক ছিলেন, আবার অনেকেই ঢাকা সচিবলয়ে মাসিক বেতন নিয়েও চাকুরী করেছেন। কাজেই স্বাধীনতা স্বপক্ষ শক্তি ইত্যাদি বলে জাতিকে বিভক্ত রেখে আওয়ামী লিগ রাজনীতি করতে চাইছে, এটার মুখোশ খুলে ফেলতে হবে। এদের ৩য় পক্ষের এজেন্ডার মুখোশ খুলে পড়ছে এখন। হিসাব অনুযায়ী ৯৫ ভাগ অপরাধে পাকিস্তানি বাহিনি জড়িত। বাকি পাঁচ ভাগ অপরাধ করেছে রাজাকার, আল বদর ও আল শামস।

Sunday 11 April 2010

শেখ মুজিব স্বাধীনতা চেয়েছিলেন ?

বর্তমান সময়ের একটি আলোচনার বিষয় হল স্বাধীনতা বিরোধী যুদ্ধাপারাধী। সকলের এখন একটাই প্রশ্ন, স্বাধীনতার বিরোধিতাকারি জামায়াত ইসলামি এই দেশে এখন রাজনীতি করার অধিকার চায় কেন? এই প্রশ্নের উত্তর পেতে হলে আমাদেরকে দেখতে হবে[su] স্বাধীনতার স্থপতি শেখ মজিব কি চেয়েছিলেন?[/su]

১৯৬৯ সালের ১৪ই মার্চ শেখ মুজিব রাওয়াল পিন্ডি থেকে একটি গোল বৈঠক থেকে দেশে ফিরেন। সেখানে তিনি পান বিরোচিত সংবর্ধনা। বিমানবন্দরে তিনি ভাষন দেন। সেখানে তিনি বলেন, তাকে সমর্থন দিলে(রাজনৈতিক নেতাদের সমর্থন) তিনি আইয়ুব খানের কাছ থেকে এই দেশের জণ্য সায়ত্বশাসন দাবী করতেন। সেখানে তিনি মাওলানা ভাসাণীকে রাজণীতি থেকে অবসর গ্রহনের জন্য পরামর্শ দেন। (ক১)
শেখ মুজিবের অর্থনৈতিক উপদেষ্টা জনাব রেহমান সোবহান ২৫ শে মার্চ বিকাল ৫ টায় তার সাথে দেখা করেন। সেখানে মুজিব তাকে বলেন যে পাকিস্তানের সেনাবাহীনির উপর অভিযানের নির্দেশ এসেছে। এই পর্যায়ে সোবহান সাহেব তাকে একটি সিদ্ধান্ত গ্রহনের অনুরোধ করেন। কিন্তু মুজিব জানান তিনি অপেক্ষা করছেন। সম্ভবত ইয়াহিয়া খান কোন আপোষ করার জণ্য ফোন করবেন। (ক২)

এই ব্যাপারে শেখ মুজিবের ঘনিষ্ট কামাল হোসেন বলেন:

" I waited for a telephone call throughout the fateful 25 march. The telephone call never came indeed when I finally took leave of Sheikh Muzib at about 10:30 pm on 25 th march, Sheikh Mujib asked me whether I had received such a call . I confirmed him that I had not " (খ১)

আসলে শেখ মুজিব সেই কালো রাত্রিতেও স্বাধীনতার কথা ভাবেননি। তিনি ২৭ তারিখে হরতালের কথা বলেছিলেন। (খ২)

শসস্ত্র সংগ্রামে শেখ মুজিবের তেমন কোন বিশ্বাস ছিল না। তিনি তার গুরু সোহরাওয়ার্দির মত নিয়মতান্ত্রিক রাজনীতিতে বিশ্বাস করতেন।(খ৩)

শেখ মুজিব গ্রেফতার হওয়ার পর এআ ব্যাপারে ইন্দিরা গান্ধী প্রশ্ন তোলেন। তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের সফলতা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন। তিনি এই ব্যাপারে প্রশ্ন করেন আপনাদের যুদ্ধের মুল কৌশলটা আমাকে বুঝিয়ে বলুন।আপনাদের সেনাপতি নিজে ধরা দিয়ে আপনাদের যুদ্ধ চালীয়ে যেতে বলছেন এটা আবার কি ধরনের কৌশল? জবাবে তখনকার নেতারা বলেছিল যে তিনি গৃহ ত্যাগ করেছে এবং সহসাই আমাদের সাথে মিলিত হবেন। তখন ইন্দিরা বলেছিল আপনারা ভুল বলচেন শেখ মুজিব স্বেচ্ছায় ধরা দিয়েছেন। এই কথা শুনে খন্দকার মোশতাক এবং তাজউদ্দিন নিরুত্তর হয়ে যান। (গ১)





ক২. রেহমান সেবহানের সাক্ষাতকার: বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্র : ২য় খনড পৃ: ৩৯০
খ১: ডা: কামাল হোসেনের সাক্ষাতকার: বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্র: ১৫শ খনড পৃ: ২৭৮
খ২: বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্র : ২য় খনড পৃ: ৭৮৬
খ৩: ঢাকা আগরতলা মুজিব নগর, এম মোহাইমেন, পৃ: ৬৭
গ১: ঢাকা আগরতলা মুজিব নগর, এম মোহাইমেন, পৃ: ৬৪

Saturday 10 April 2010

শেখ মুজিব কোন পন্থি ছিলেন?

এই টপিকটা এখনকার তেমন কোন হিট টপিক না হলেও আমার মনে হল আপনাদের সাথে শেয়ার করা দারকার তাই করছি।

বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই ভারত তোষন নীতি নিয়ে ঝাপিয়ে পড়ছে। অবস্থা দৃষ্টিতে মনে হচছে ভারতেরই কোন সরকার এটা। আওয়ামীলিগের রাজনৈতিক আদর্শ তাদের দলের এবং বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা শেখ মুজিব। বরাবরই আওয়ামী লীগের বর্তমান চেয়ারম্যান এবং শেখ মুজিব কন্যা শেখ হাসিনা একটা কথাই বলে থাকেন যে বংগবন্ধুর স্বপ্ন। তাই ভাবলাম একটি আলোচনা করা দরকার ভারতের ব্যাপারে বংগবন্ধুর নীতি কি ছিল?

১০ই জানুয়ারী বংগবন্ধুর স্বদেশ প্রর্তাবর্তন দিবস। এইদিন বংগবন্ধু পাকিস্তান কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে দেশে ফেরেন। কিন্তু ১০ ই জানুয়ারী পর্যন্ত ব্রিটেন বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়নি। তাহলে কেন বংগবন্ধু লন্ডন হয়ে ব্রিটিশ এয়ারলাইন্সে বাংলাদেশ আসলেন?? তিনি তো দিল্লি এয়ারলাইন্সেও আসতে পারতেন। এই দাবী দিল্লিরো ছিল। কারন কি? সেটা তার মুখ থেকেই শোনা যাক।

"বংগবন্ধু তার বন্ধু ভারত কে মনে মনে বিশ্বাস করতেন না। ভারত দাবী করেছিল তিনি যেন দিল্লি এয়ারলাইন্স হয়ে আসেন। তাদের দাবী আওয়ামীলীগ নেতা আব্দুস সামাদ আজাদ শেখ সাহেবকে জানান। কিন্তু তিনি সাফ জানিয়ে দেন, আমি ব্রিটিশ এয়ার লাইন্সই আসবো। কেন তিনি এই স্বিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তা আমাদের অজানা। "

১৯৭১ সালে ২৮শে ডিসম্বার তিনজন সংখ্যা লঘু নেতা দিল্লি যান মিসেস গান্ধীর কাছে দেন দরবার করতে। তাদের আব্দার ছিল বাংলাদেশকে যেনো ভারতের একটা প্রদেশ করে নেওয়া হয়। এই তিনজন মহান দেশপ্রেমকি সেতা ছীলেন মনোরন্জন ধর, ফনিভুষন মজুমদার এবং চিত্তরন্জন সুতার। কিন্তু শেখ সাহেব সরা সরি এই খবরই প্রত্যাখ্যান করেন। এবং প্রচন্ড বিরোধীতা করেন।

বর্তমান সরকারের অন্যতম তরুন নক্ষত্র সোহেল তাজের দেশপ্রমিক পিতার মুজিব নগর সরকার কি করেছিলেন তা আরও ভয়ংকর। তারা দিল্লির সাথে একটি গোপন চুক্তি করেন। কিন্তু শেখ মুজিব দেশে ফিরেই এই চুক্তি প্রত্যাখান করেন।শেখ মুজিব চুক্তির সকল অংশ প্রত্যাখান করে বললেন এই চুক্তি আমি মানিনা। তিনি এর সব স্বিদ্ধান্ত বাতিল করে দিলেন। অবিলম্বে দেশ থেকে সকল ভারতীয় কর্মকর্তা কর্মচারীকে বের হয়ে যাওয়ার আদেশ দিলেন।সিমান্তের তিন মাইলের মধ্যে অবাধ বানিজ্যের চুক্তি বাতিল করলেন। ভারতে পরামর্শ অনুযায়ী সেনাবাহিনী একিভুত কারা স্বীদ্ধান্ত প্রত্যাখান করলেন। এবং সেনা বাহিণী শক্তিশালী করার উদ্যোগ নিলেন। এই ব্যাপারে মন্ত্রী সভার বৈঠকে তীব্র বাক বিতন্ডা হল। তাজউদ্দিনের নেতৃত্বে একপক্ষ তার সেনাবাহীনির রাখার স্বিদ্ধান্তে বিরক্ত হল। শেখ সাহেব জানালেন তিনি পশ্চিম পাকিস্তান থেকে সামরিক অফিসারদের দেশে ফেরাবার উদ্যোগ নেবেন। এতে ভারতীয় সেনাবাহিণী বিরক্ত হয়ে প্রতাশ্যে বিবৃতিও দেয়া শুরু করল।

শেখ সাহেবের সবচেয়ে দেশ প্রেমক ময় কাজ করলেন মিসেস গান্ধির সাথে বৈঠকে। ফেব্রুয়ারীর শেষের দিকে সামরিক নায়কদের নিয়ে গান্ধী বৈঠকে বসেছিলেন শেখ সাহেব কে নিয়ে সেখানে তিনি সরাসরি দাবী করলেন কবে আপনি বাংলাদেশ থেকে সব সৈন্য প্রত্যাহার করছেন? শুনে মিসেস গান্ধী খুবই বিরকত্ হয়ে মানেক শর দিকে তাকালেন। তারপর বললেন আপনি যেদিন বলবেন সেদিনই

শেখ সাহেব স্বিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তিনি ওআইসির শীর্ষ সম্মেলনে যাবেন। এই ব্যপারে ইনডিয়ার পরামর্শে তাজউদ্দিন পন্থিরা তাকে পরামর্শ দেয় সেই সম্মেলনে না যাওয়ার জন্য। কিন্তু তিনি স্পষ্ট বলেন আমি লাহোর যাব এবং সম্মেলনে যোগ দিয়ে সদস্য পদ নেব। দেখি কে কি করে। এই ব্যাপারে একজন মন্তব্য করে শেক সাহেব বেশি বেড়েছে। এর জবাবে তিনি বলেন সবে তো শুরু দেখেন আমি কি করি।

Saturday 13 March 2010

আবার বাংলাদেশে ভারতীয় আগ্রাসন

আবার বাংলাদেশে ভারতীয় আগ্রাসন: মুল্যবান খনিজ সম্পদ হারাচ্ছে বাংলাদেশ



আবার নতুন করে শুরু হয়েছে বাংলাদেশের উপর ভারতীয় আগ্রাসন। নিজেদের অনুগত সরকার ক্ষমতায় বসানো। দেশের সাংস্ক্রতিকে প্রভাবিত করার পর এবার ভারতে পরিকল্পনা সরাসরি আগ্রাসন। বহুদিন আগে থেকেই অনুমান করা হচ্ছিল বাংলাদেশের সিলেট সিমান্তে রয়েছে বহু মুল্যবান ইউরেনিয়মা। নিজস্ব প্রযুক্তি না থাকায় বাংলাদেশ ব্যর্থ হয়েছে এই খনিজ উত্তোলনে।

এবার চোখ পড়েছে ভারতের। সম্প্রতি তাদের আমেরিকা এবং রাশিয়ার সাথে করা পরমানু চুক্তি বাস্তবায়ন করতে হলে বিপুল পরিমান ইউরেনিয়াম প্রয়োজন। এই ব্যাপারে সরকারের উচ্চ পর্যায়ে অবহিত থাকলে তারা চুপ রয়েছে। সেনাবাহিনীকে ও কোন প্রকার মুভমেন্ট না করার ব্যাপারে চাপ রয়েছে বলেও জানা গেছে। ইতি মধ্যেই ভারত মাটির নিচ দিয়ে খনন করা শুরু করে দিয়েছে। এই ব্যাপারে বাংলাদেশ যাতে কোন সতর্ক পদক্ষেপ নিতে না পারে সেই জন্য বিএসএফকে এই অন্ঞলে পরিবেশ অস্থির রাখতে বলা হয়েছে। তাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে আমরা আমাদের সবচেয়ে মুল্যবান খনিজ সম্পদ হারাতে যাচ্ছি।

Sunday 21 February 2010

যেভাবে শাহাদাতের সিড়িতে উঠলেন শাহিন

পুলিশ শাহীনের জামার কলার ধরে টেনে ঘরের বাইরে আনতে চাচ্ছে আর শাহীন যাচ্ছিল পেছনের দিকে। তিনজন পুলিশ তার দিকে বন্দুক তাক করে আছে। শাহীন ছিল অনেক উঁচু লম্বা ও শক্তসমর্থ পুরুষ। পুলিশ তাকে টেনে ঘর থেকে বাইরে আনতে পারছিল না। কলার ধরে টানার ফলে শাহীন সামনের দিকে ঝুঁকে পড়ে। এ সময় দরজার পাশে দাঁড়ানো দারোগা তিনবার বলে, ‘গুলি কর’। তখন বন্দুক তাক করে থাকা একজন পুলিশ গুলি করে। শাহীন মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। উপুড় হয়ে মাথাটা ডানে-বামে ঘোরাতে চেষ্টা করে শাহীন। রক্ত গড়িয়ে দরজা পর্যন্ত চলে আসে। এর কিছুক্ষণ পর শাহীনের একটি পা একবার ঝাঁকি দিয়ে উঠল। পরে আর তিনি নড়াচড়া করেনি। নিস্তব্ধ হয়ে গেল সব কিছু। এরপর শাহীনের নিথর দেহের দিকে তাকিয়ে একজন পুলিশ বলে, ‘আজরাইল, তুই এত কাছে ছিলি’?”
শাহীনকে ঘর থেকে টানাটানি করে বের করার চেষ্টা এবং পুলিশ গুলি করে হত্যার সময় ঘরের দরজার সামনে দাঁড়ানো ছিলেন শাহীনের বìধু মাহফুজের চাচা আজহারুল হক।
পুলিশ কর্তৃক এভাবে শাহীনকে গুলি করে হত্যার দৃশ্য বর্ণনা করে আজহারুল হক বলেন, “আমি যেন কেমন একটা ঘোরের মধ্যে পড়ে যাই এ ঘটনা দেখার পর। আমি বুঝে উঠতে পারছিলাম না কী হচ্ছে এসব। শাহীনকে মারার পর দেখলাম একজন পুলিশ (এসআই ইয়ামিন) গেটের কাছে গিয়ে ফোনে বলতে লাগল, ‘স্যার একটা বোমা ফুটছে। একটি লাশ পাওয়া গেছে। আত্মহত্যা করেছে মনে হয়।’ তখন আমি বুঝলাম এর মধ্যে ষড়যন্ত্র আছে। আমার এখানে থাকা এবং এ বিষয়ে কথা বলা নিরাপদ নয়।”
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহ মখদুম হলে গত ৮ ফেব্রুয়ারি রাতে টিভি রুমে হামলায় নিহত হন ছাত্রলীগ কর্মী ফারুক হোসেন। ফারুক হত্যা মামলায় আসামি করা হয় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের ছাত্র মিজানুর রহমান শাহীনকে। রাষ্ট্রবিজ্ঞান চতুর্থ বর্ষের ছাত্র শাহীন মামলার ১৬ নম্বর আসামি। তার বাড়ি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন মেহেরচ ী গ্রামে। গ্রেফতার এড়াতে শাহীন চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ থানার চৈতন্যপুর গ্রামে তার বìধু মাহফুজের বাড়িতে যান ১০ ফেব্রুয়ারি সকালে। সে দিনই গভীর রাতে পুলিশ ওই বাড়িতে অভিযান চালায় ।
পুলিশের সাথে থাকা চৌকিদার আনোয়ারুল এবং অভিযানে অংশ নেয়া একজন পুলিশ জানিয়েছে, পুলিশ দেয়াল টপকে প্রথমে মাহফুজের চাচা আজহারুল হকের বাড়িতে ঢোকে। তিনজন অবস্খান নেয় বাড়ির ছাদে। দেয়াল টপকে পুলিশ বাড়ির উঠানে প্রবেশের পর গেটের দরজা খুলে দিয়ে অন্যান্য পুলিশকে ভেতরে প্রবেশ করানো হয়। এরপর চৌকিদারকে সাথে নিয়ে মাহফুজের চাচা আজহারুল হকের শোয়ার ঘরের দরজায় নক করে পুলিশ।
আজহারুল হক জানান, ঘুম থেকে ওঠার পর চৌকিদার জানাল বাড়িতে পুলিশ এসেছে। দরজা খোলার পর তারা আমাকে বলল, আপনাদের বাড়িতে বহিরাগত আগন্তুক আছে। আমি বললাম বাড়িতে কোনো নতুন লোক নেই। তারা সার্চ করা শুরু করল এবং কোনো নতুন লোক পেল না। তখন আমাকে পুলিশ জিজ্ঞেস করল, মাহফুজদের ঘর কোনটা। আমি দেখিয়ে দিলাম। (আজহারুল হক ও মাহফুজদের ঘর দেয়ালঘেঁষা। আজহারুলের বাড়ি থেকে মাহফুজদের বাড়িতে ঢোকার ছোট একটি গেট আছে।) তারা ওদের বাড়িতে ঢুকল।
আজহারুল হক জানান, আমিও তাদের সাথে গেলাম এবং পুলিশের কথামতো বড় ভাইকে (মফিজুল ইসলাম) ডাক দিলাম। বড়ভাই উঠতে দেরি করছিলেন। তিনি কানে কম শোনেন। পুলিশ আমাকে জোরে ডাক দিতে বলল। বড় ভাই তখনো ওঠেননি। এরই মধ্যে আমি কুঠিঘরে (স্টোর রুম, উঠানের এক প্রান্তে অবস্খিত) টানাহেঁচড়া এবং ‘আও আও’ শব্দ শুনে সে দিকে গেলাম। সেখানে গিয়ে দেখি পুলিশ একজনের (শাহীন) জামার কলার ধরে বাইরের দিকে টানছে। আর লোকটি পেছনের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করছে। টানাটানির সময় লোকটি (শাহীন) সামনের দিকে ঝোঁকা অবস্খায়ই গুলি করল পুলিশ। গুলি করার আগে দরজার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা দারোগা তাকে তিনবার বলল, ‘গুলি কর’। আমি মনে করলাম বড়ভাইয়ের ছেলে মাহফুজকে মেরেছে পুলিশ। কারণ মাহফুজের বìধু যে তাদের বাড়িতে বেড়াতে এসেছে, তা আমার জানা ছিল না। আমি দৌড়ে মাহফুজের ঘরে গেলাম। তার স্ত্রী দরজার সামনে দাঁড়ানো ছিল। আমি তাকে বললাম, মাহফুজ তো শেষ। তার স্ত্রী জানাল, না মাহফুজ ঘরে আছে।
মাহফুজের মা মরিয়ম জানান, পুলিশের প্রথম ডাকই আমি শুনেছি। আমার ঘরে ছোট একটি শিশু ছিল। সে না ঘুমানোর কারণে আমিও তখন পর্যন্ত সজাগ ছিলাম। ডাকাডাকির শব্দে আমি মাহফুজের বাবাকে ডাকলাম। কিন্তু সে কানে কম শোনায় উঠতে দেরি করেছে। দরজা খোলার আগেই আমি কুঠিঘরে ঠাস করে একটি শব্দ শুনতে পেলাম।
মাহফুজের আব্বা মফিজুল জানান, দরজা খুলে আমি কুঠিঘরের দিকে গেলাম। আমার মেহমানের (শাহীন) প্রাণ তখনো যায়নি। আমি কাছে যেতে চাইলাম। পুলিশ আমাকে যেতে দিলো না। আমি এ দৃশ্য দেখে হতভম্ব হয়ে গেলাম।
মাহফুজের স্ত্রী নাজমা আক্তার জানান, এরপর পুলিশ ‘মাহফুজ কোথায় মাহফুজ কোথায়’ বলতে বলতে আমাদের ঘরে এলো। মাহফুজকে ধরে উঠানে নিয়ে হাতকড়া পরাল । আমাকেও তার পাশে দাঁড় করাল। নাজমা জানান, পুলিশ বাড়িতে প্রবেশের পরই আমরা কুঠিঘরে গুলির শব্দ শুনেছি।
মাহফুজের মা মরিয়ম, বাবা মফিজুল ও স্ত্রী নাজমা জানান, ওই রাতে শাহীন ছাড়া তাদের বাড়িতে কোনো নতুন লোক ছিল না। মাহফুজের বাবা মফিজুল কুঠিঘরসংলগ্ন মেইন গেট দেখিয়ে বলেন, শোয়ার আগে আমি নিজে তালা লাগিয়েছি। হত্যাকাে র পর পুলিশের সামনে আমি গেটের তালা খুলেছি। বাড়ি থেকে কারো পালিয়ে যাওয়ার কোনো উপায় ছিল না। থাকলে শাহীন পালিয়ে যেতে পারত। পালাতে পারেনি বলেই সে কুঠিঘরে আশ্রয় নিয়েছিল। কুঠিঘরের পাশে রান্নাঘর। রান্নাঘরের দরজায়ও তালা দেয়া ছিল। ফলে শাহীন পালাতে পারেনি। কুঠিঘরের বারান্দার কোনায় লুকিয়ে ছিল। পুলিশ তাকে সেখান থেকে টেনে বের করে গুলি করে হত্যা করেছে।
ঘটনার পর শাহীনের ঘরে একটি বিছানো জায়নামাজ পাওয়া গেছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণে বোঝা যায়, পুলিশ আসার আগ পর্যন্ত শাহীন সজাগ এবং নামাজরত ছিলেন। বাড়ির চার দিকে পুলিশের আগমন এবং মাহফুজের চাচার ঘরে পুলিশের ডাকাডাকির বিষয়টি শাহীন টের পেয়ে যান। তখনই তিনি ঘর থেকে বের হয়ে পালানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু বাড়ির গেট ছিল বìধ। পুলিশ টের পেয়ে যাবে সে জন্য সে কাউকে ডাক দেয়ারও সাহস পায়নি। অবশেষে সে কুঠিঘরে প্রবেশ করে।
মাহফুজদের চারজন প্রতিবেশী রয়েছেন। তারা জানিয়েছেন, মাহফুজের চাচা ও মাহফুজদের বাড়িতে পুলিশ ঢুকে যখন ডাকাডাকি করে, তখন তাদের সবার ঘুম ভেঙে যায়। পুলিশ মাহফুজদের বাড়িতে প্রবেশের পরই তারা গুলির শব্দ শুনতে পেয়েছেন। এরপর কী হয়েছে তা জানার জন্য তারা বাড়িতে ঢুকতে চাইলে পুলিশ তাদের বাধা দেয়।
মাহফুজের চাচা আজহারুল হক ও বাবা মফিজুল হক বলেন, শাহীনের গলার সামান্য নিচে গুলি করা হয়েছে। গুলিটি নিচের দিক থেকে করায় ঘাড়ের মাঝখান থেকে বেরিয়ে শাহীনের পেছন দিকে থাকা রান্নাঘরে দরজায় আঘাত করে। কাঠের দরজাটি অপেক্ষাকৃত দুর্বল হওয়ায় দরজা ভেদ করে গুলিটি চালে আঘাত করে এবং মাটির চালা ছিদ্র হয়ে যায়। শিবগঞ্জ থানার ওসি ফজলুর রহমান বলেন, এসআই ইয়ামিনের নেতৃত্বে নয়জন পুলিশ অভিযানে অংশ নেয়। তাদের সাথে এএসআই রেজাউল করিম ও এএসআই আমিনুল ইসলাম ছিলেন।
শাহীনকে দেখামাত্র গুলি করার কোনো নির্দেশ ওপরের মহলের ছিল কি না জানতে চাইলে তিনি না-সূচক জবাব দেন।

মুল লেখা এখানে

বাংলাদেশের অখন্ডতার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র

১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভ করে অনেক রক্তের বিনিময়ে। অনেক ত্যাগের ইতিহাস জড়িয়ে আছে এই স্বাধীনতার সাথে। বাংলাদেশের সাধারন খেটে খাওয়া মানুষ ধরেই নিয়েছিল যে মানুষ মুক্তি পেয়েছিল এক রাহু গ্রাসের কবল থেকে। কিন্তু তাদের সরল মানুষ বুঝতেই পারেনি যে তারা কুমিরের মুখ থেকে মুক্তি পেয়ে যে পড়েছে হাংগরে আস্তানায়। এখানে রক্তের নেশা নিয়ে অপেক্ষা হাজার হাজার হাংগর।

আমাদের দেশ আল্লাহ প্রদত্ত খুবই উর্বর আর খনিজ সম্পদ সমৃদাধ। আমাদের মাটিতে বীজ ফেলার আগেই ফসল হওয়া শুরু করে। এদেশ খনিজ সম্পদের উপর ভাসছে। তাই সব সময় হায়েনাদের খুদার্থ চোখ ছিল আমাদের উপর। পাকিস্তানের সৈন্যরা এদেশ থেকে চলে যাওয়ার পর থেকেই এদেশে ঝাপিয়ে পড়ে ভারত, আমেরিকা আর ইউরোপের খুদার্থ পশু গুলো।

পার্বত্য অন্চল হল দেশের সবচেয়ে উন্নতমানের আর সমৃদ্ধ খনিজ পদার্থ সমৃদ্ধ। মার্কিন উপগ্রহের গবেষনায় তারা দেখতে পায় এই দেশের এই ধনভান্ডার। এর পর থেকেই প্রত্যেকেই ললুপ ভাবে চেয়ে আছে এই সম্পদের দিকে।
আদিবাসী নাম সৃষ্টি, তাদেরকে অস্ত্র ও অন্য সাহায়্য দেয়ার গুরদায়ীত্ব বরাবরই নিজেরাই করেছে ভারত । যেরকম করেছিল তারা ৭১ এ । আর এনজিও আর সাহায্য কর্মীদের নামে বাকি দায়িত্ব পালন করছে ইউরোপের গোয়েন্দারা। তারা দিনে দিনে দুর্বল করে দিচ্ছে বাংলাদেশের মানুষের দেশপ্রেম। পাহাড়ি বাংলাদেশিদের বোঝাচ্ছে যে এই দেশে তোমরা উদ্বাস্তু। তাই সময় থাকথে নিজ দেশে ফিরে যাও। বাংলাদেশের একটা অংশের মানুষ এখন নিজ দেশে পরবাসী। তাদেরকে হুমকি দেয়া হয় বাড়ি জালিয়ে দেওয়ার, হত্যার, অপহরনের।

গতকালের ঘটনাই প্রমান করেছে বাংলাদেশীরা নিজ দেশেই কতটা অসহায়। এই ধরনের অবস্থা আজ একদিনে সৃষ্টি হয়নি। এটা অনেক দিনের ষড়যন্ত্রের ফসল। আর এই সময়টা হল এই ষড়যন্ত্রের বাস্তবায়নের সবচেয়ে উত্তম সময়।

ঘটনার পটভুমি ও আবর্তন

ভারতীয় ভুমিকা
১. পার্বত্য চট্রগ্রামের প্রতি হায়েনাদের দৃষ্টি অনেক পুরোনো। এই উদ্দশ্যেই তারা অস্ত্র আর অর্থ দিয়ে শক্তিশালী করে তোলে পার্বতী সন্ত্রাষীদের। তাদেরকে রেগুলার অস্ত্র আর আর প্রশিক্ষন দিয়ে করে তোলে সাহসী । তাদেরকে উষ্কানী দেয় স্বাধীন দেশের জণ্য সংগ্রামের জন্য । খুদ্র পার্বত্য অন্চল স্বাধীন হয়ে গেলে সিকিমের মত ওই অংশ দখল করা যাবে খুবই সহজে। তাদের সফলতার প্রথম ধাপ শেষ হয় গত পর্বে হাসিনার শান্তি চুক্তির মাধ্যমে। এরপর আরও সক্রিয় হয় তাদের লক্ষ্য বাস্তবায়নে। কিন্তু সমস্যায় পড়ে যায় বিএনপি সরকার আসাতে। কিন্তু এই সমস্যা কিছুদিনেই কেটে যায়, দৃর্নীতিবাজ বিএনপি মন্ত্রীদের দ্বারা। তারা আবার তৎপর হয়ে উঠে বাংলাদেশকে ভাগ করতে । বর্তমান সরকারের সেনা প্রত্যাহার ছিল এই ষড়যন্ত্রেরই একটা অংশ্ । সেনা প্রত্যাহারের পর থেকেই শুরু হয় পার্বত্য সন্ত্রাসীদের পুর্ন তৎপরতা। তারই ধারাবাহিকতা কালকের এই ঘটনা।

পাশ্চাত্যের ভুমিকা

পাশ্চাত্য বিশ্বের দৃষ্টিও এক মুহুর্তের জন্য সরেনি বাংলাদেশের দিক থেকে। প্রধানত দুই কারনে:
১. পার্বত্য অন্চলের সম্পদ দখল।
২. পার্বত্য অন্চল, আসামকে নিয়ে একটি খৃষ্টান রাষ্ট্র
পত্তন।
৩. এই নতুন খৃষ্টান রাষ্ট্রকে কেন্দ্র করে এশিয়ার
বাংলাদেশ , ভারত আর চীনকে নিয়ন্ত্রন করা।

দির্ঘদিন ধরে পাশ্চাত্যের মিশনারীদের সফল কর্মকান্ডের ফলে এখন অনেক পার্বতীই খৃষ্টান। আমি শুনেছি পার্বত্যের ছেলে মেয়েরা নাকি খুবই সহজে ইউরোপ আমেরিকার ভিসা পায়। তাদের কার্যক্রম শুধু বাংলাদেশ নয়, দরিদ্র আসামের নিচু জাতের দরিদ্রদের মধ্যেও চলছে।

তাদের ষড়যন্ত্র ঠিকমত বাস্তবায়ন হলে তাদের নতুন খৃষ্টান রাষ্ট্র পত্তনের ষড়যন্ত্র সফল হবে নিম্নোক্তভাবে।
১. গতকালের এই সংঘর্ষ ধিরে ধিরে আরো বিস্তৃতি পাবে।
২. সেখানে শান্তি আনার জণ্য সেনাবাহিনি অভিযান শুরু করবে। তার ফলে অনেক পাহাড়ি সাধারন জনগন মারা যাবে।
৩. সারাদেশের ভারতপন্থী মিডিয়া আর এনজিও গুলো ঝাপিয়ে পড়বে সেনাবাহিনীর কার্যক্রমের বিরুদ্ধে।
৪. দেশি বিদেশী মানবাধিকার সংস্থাগুলো মানবতা রক্ষার দাবী নিয়ে হোয়াইট হাউজ আর ব্রিটেনের রাজ প্রাসাদের সামনে কর্মসুচি শুরু করবে।
৫. আনতর্জাতিক মন্ডলে চাপ বাড়তে থাকবে পার্বত্য অন্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠায়। তখন পার্বথ্য সন্ত্রাসীরা দাবী করবে যে কোনো মুল্যে সেনা বিহিনীর পুর্ন প্রত্যাহার করতে হবে। তখন প্রধানমন্ত্রী সেনাবাহিণী প্রথ্যাহার করে নেবেন। আন্তর্জাতিক চাপ থাকায় সেনাবাহিণী ও কিছু বলবেনা।
৬. হটাত সমগ্র পার্বত্য অন্চলে শুরু হবে গুপ্ত হত্যা (ভারতীয় আর মোসাদের দ্বারা)।
৭. চারদিকে দাবী উঠবে আন্তর্জাতিক শান্তি রক্ষি বাহিণী মোতায়েনের। নিরুপায় হয়ে সরকার শান্তিরক্ষিবাহিণী মোতায়েন করবে।
৮. তারপর শুরু হবে স্বাধীন আর পরিপুর্ন খৃষ্টান রাষ্ট্র গঠনের কার্যক্রম।
৯. সফলতার সাথে এই কাজ গুলো করার কারনে পরষ্কার স্বরুপ শেখ হাসিনাকে দেয়া হবে নোবেল শান্তি পুরষ্কার।

উপরি উক্ত ঘটনা গুলো সম্পুর্ন কাল্পনিক, তবে সত্যের অবলম্বনে। এভাবেই পাশ্চাত্য ধ্বংষ করেছে বিভিন্ন মুসলিম দেশ। বাংলাদেশ হবে তাদের ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নের আর একটি ক্ষেত্র।

Saturday 20 February 2010

সফল ছাত্রলীগনেতার সফলতার গল্প

শিবির বিরোধী এই অভিযানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক তানভীর শুধু দিক নির্দেশনাই দিচ্ছে, নিজে একশানে যাচ্ছে না। সে ভাল করেই জানে শিবির এখন চুপচাপ থাকবে কিন্তু সময় সুযোগ পেলে এর চরম প্রতিশোধ নিবে। যারা এখন অভিযানে সরাসরি অংশগ্রহন করছে তাদের নাম ইতিমধ্যে খরচের খাতায় লেখা হয়ে গেছে। এক এক করে সবাই একদিন অপঘাতে মারা যাবে, শিবির এমনই কঠিন এক চীজ। ইতিমধ্যে সকালে শিবিরের এক ক্যাডার তাকে মারার জন্য এসেছিল। হলে এসে তানভীরকে বহিরাগত এক দাঁড়িওয়ালা ছেলে খুঁজতে এসেছিল। হলের আরেক ছাত্র লীগ নেতা তাকে ধরে ফেলে। দুয়েক ঘা দেয়ার পরে ছেলেটি অজ্ঞান হয়ে পড়ে। জ্ঞান ফিরলে ওই ছেলেকে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানা যায় তানভীরের খোঁজ করছিল ছেলেটি। পরে আবার মার শুরু হয়। ভাগ্য ভাল ওই সময় তানভীর হলে ছিল না। ভোরে কেন্দ্রীয় অফিসে গিয়েছিল। হলে ফেরার পরে এই ঘটনা শুনছে। কেন্দ্রীয় অফিসে প্রবেশের সময় মোবাইল বন্ধ করে রেখেছিল, পরে আর অন করতে খেয়াল হয়নি। মোবাইলে তাকে এই ঘটনা জানানোর চেষ্টা করেছিল হলের নেতারা, কিন্তু মোবাইলে তখন পাওয়া যায়নি। ওই ছেলেকে তানভীরের দেখতে ইচ্ছে করছে। রুমে একটা কাজ সেরে নিচে নেমে দেখে আসবে সেই শিবিরের ক্যাডারকে। শিবিরের কত্ত বড় সাহস! যেখানে সারা দেশে শিবির বিরোধী অভিযান চলছে সেখানে ঢাকা বিশববিদ্যালয়ের মত জায়গায় শিবির তার ক্যাডার পাঠায়! বড় বাড়াবাড়ি করছে এই সন্ত্রাসী সংগঠন। বাংলার মাটিতে তাদের ঠাঁই নাই।
ভাবতে ভাবতেই হলের এক নেতা তানভীরের কাছে এল। ছেলেটার মুখ শুকনা, মনে হয় কোন বিপদ ঘটেছে। নাম নোমান। সেকেন্ড ইয়ারে পড়লেও নোমান হল কমিটির ভাল পদে আছে। যেকোন সময় হল গরম করার তরিকা তার জানা আছে। মারামারি কাটাকাটিতে তার জুড়ি নেই।

নোমানঃ তানভীর ভাই একটা সমস্যা হয়ে গেছে।
তানভীরঃ কী সমস্যা?
নোমানঃ ছেলেটা মারা গেছে।
তানভীরঃ কোন ছেলেটা?
নোমানঃ সকালে শিবিরের যে ক্যাডার আপনাকে মারতে এসেছিল সেই ছেলে।
তানভীরঃ প্যাঁচাল তো লাগিয়ে দিলি, এখন হাই কমান্ডে ফোন করতে হবে। তোদের আসলে মাথা গরম। মাথা ঠান্ডা করে নেতৃত্ব দেয়া শিখ। এখনো সময় আছে। আমি যদি সকালে হলে থাকতাম তাহলে আর এই ঘটনা ঘটত না। দুই একটা চড় থাপ্পড় মেরে বিদায় করে দিতাম। এখন দেখি তোর জন্য কী করা যায়।

দশ মিনিট পর তানভীরের হাসি মুখ দেখা গেল।
তানভীরঃ এক কাজ কর, একটু পরে পুলিশ আসছে, ওদেরকে লাশটা দিয়ে দিস। লাশের ব্যবস্থা ওরাই করবে। আর পুলিশকে এই টাকাটা দিবি।
বলে ড্রয়ার থেকে দশ হাজার টাকা বের করে নোমানের হাতে তুলে দিল।

নোমান চলে গেল। তানভীরের মুখে বিজয়ের হাসি। এই নোমান ছেলেটাকে সে দশ হাজার টাকার বিনিময়ে কিনে ফেলেছে। সামনে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় কমিটি গঠনের সময় নোমানের মত অস্ত্র হাতে রাখা দরকার। এই যে, শিবিরের ক্যাডারকে এমন মার দিয়েছে যে মরেই গেছে। ওই ব্যটা আবার মুজাহিদ সেজেছে! নোমানের কাছে মার খেয়েই মরে যায় শালা রাজাকারের বাচ্চা।

নোমান জোর করে হাসি দিল। বলল, “ছেলেটা মনে হয় আফগান ফেরত জিহাদী। মরার আগেও আপনার নাম উচ্চারন করেছে। রাজাকারেরা দেশটাকে শেষ করে দিল। পোলাপাইনের মাথা খেয়ে দিয়েছে। ওদের টার্গেট থাকে মরার আগ পর্যন্ত ওদের দ্বায়িত্ব পালন করা। ওটাকে ওরা ঈমানী দ্বায়িত্ব মনে করে।”

তানভীরঃ ওর কাছে কোন অস্ত্র পাওয়া গিয়েছে?
নোমানঃ না। সে মনে হয় আপনার অবস্থান বের করতে এসেছিল। ওর কাজ হল আপনার অবস্থান তাদের বাহিনীকে জানিয়ে দেয়া। সেই বাহিনী তখন একশনে যাবে। হলে ঢুকার সময়ই তাকে আমি ফলো করি। ওর মোবাইল সীজ করি। মোবাইলের কল লিস্টের প্রথমেই আপনার নাম ছিল। সকাল আটটা থেকে দশটা পর্যন্ত আপনার মোবাইলে কমপক্ষে দশবার কল করেছিল। ধরে শুরু করি সেইরকম মাইর। যেহেতু আজ আপনাকে ওরা খুঁজতে এসেছে তাই আজ আর বাইরে বের হবেন না প্লীজ।

তানভীরের ঘাড়ের চুল কিছুক্ষনের জন্য খাড়া হয়ে গেল। কী মারাত্মক কথা। পকেটের পিস্তলটা ঠিকমত আছে কিনা দেখে নিল। যহোক কেন্দীয় অফিসে আজকের মিটিংটা খুব সফল হয়েছে। কেন্দ্রের এক গুরুত্বপূর্ণ পদ পেতে তেমন বড় কোন বাধা নেই। আজ বাইরে না বেরোলেও চলবে।

কিছুক্ষন পরে পুলিশের গাড়ী এল। পুলিশের গাড়ীতে লাশ তোলা হচ্ছে। দূর থেকে তানভীর সবই দেখল। লাশের মুখটা একেবারে থেতলে গেছে। মুখটা দেখে চেনা যায় না এটা মানুষ না কী? ছেলেটার গায়ে পাঞ্জাবী আর প্যান্ট। নিশ্চিত শিবির!

নোমান তানভীরের কাছে আসল, “তানভীর ভাই এই মোবাইলটা আপনার। মানে আপনাকে যে মারতে এসেছিল তার মোবাইল। গনিমতের মাল হিসেবে রাখেন। দারুন সেট N-95। বন্ধ করে রেখেছি। পুলিশকে দেই নাই।”
নোমান তানভীরের উদ্দেশ্যে চোখ টিপল। “আর ভাই আরেকটা কথা পুলিশকে আট হাজারে ম্যানেজ করেছি বাকী দুই হাজার টাকায় পোলাপাইনের জন্য নাস্তা আনতে পাঠিয়েছি”। বলেই নোমান শ্লোগানের সুরে চিৎকার করল, “ধর ধর শিবির ধর, সকাল বিকাল নাস্তা কর”। সাথের ‘পোলাপাইনেরাও’ শ্লোগানে সাড়া দিল। বাংলার প্রতিটি ঘরে যদি এমন ছেলে থাকত! তাহলে দেশটা শিবির মুক্ত হত কত আগে!!

গত মাসে তানভীর এই সেট দুইটা কিনেছিল। একটা গিফট করেছে ছোট ভাই সজীবকে আর আরেকটা হলের আরেক নেতাকে। সজীব তানভীরের চেয়ে দুই বছরের ছোট। সে কোন রাজনীতির সাথে নয়। তাবলীগ করে। বড় ভাল ছেলে। কয়েকদিন আগে বাবার সাথে টঙ্গীর তুরাগের তীরে এসেছিল। আগামীকাল ফিরে যাবে। আজ তার হলে আসার কথা। পিঠাপিঠি দুই ভাই, যেন মানিক-রতন। সজীব বাবা মায়ের সাথে বাড়ীতে থাকে। দুইজন দুইজনকে নাম ধরে ডাকে। ভাবতে ভাবতে শিবির ক্যাডারের মোবাইলটার সুইচ অন করল।

ভাইয়ের কথা ভাবছে এমন সময় বাবার কল এল। বাবা এইবার বিশ্ব ইজতেমায় এসেছে। সজীব আর বাবা একসাথেই থেকেছে।
বাবাঃ তানভীর দেখত বাবা, সজীব সেই সকালে তোর খোঁজে তোর ওখানে গিয়েছে এখন পর্যন্ত তার কোন খবর পেলাম না। তোর সাথে দেখা হয়েছে? বেচারার এমনিতে জ্বর ছিল। তোর সাথে দেখা না করে বাড়ী যাবে না তাই তোর হলে গিয়েছিল। ওর মোবাইল সকাল থেকে বন্ধ পাচ্ছি।
তানভীরঃ দেখছি আব্বা। আপনি কোন চিন্তা করবেন না।
আরো কিছু কথা বলে তানভীর সজীবের মোবাইলে কল করল। বাম হাতের সেই N-95 ভাইব্রেশনে কেঁপে উঠল। মনে হচ্ছে তানভীরের সারা শরীর কেঁপে উঠেছে। রিং টোন হচ্ছে সূরা ইয়াসীন! এটা সজীবের প্রিয় রিং টোন। কাঁপা হাতে বাম হাতের N-95 সেটটা চোখের সামনে আনার পরে চারিদিক অন্ধকার হয়ে গেল। ইনকামিং কলের নাম দেখাচ্ছে ‘TANVIR’। লাশটা তখন মাত্র গাড়ীতে তোলা হয়েছে। গাড়ী ছেড়ে দিবে। তানভীর দৌড়ে পুলিশের গাড়ীর কাছে এল। লাশের মুখে কাপড় সরিয়ে দিল। যদিও লাশটা বিকৃত তবুও তানভীরের কোন সন্দেহ রইল না এ লাশ সজীবের।

তানভীরের পেছনে হলে আনন্দ মিছিল হচ্ছে- ধর ধর শিবির ধর, সকাল বিকাল নাস্তা কর।

মুল লেখাটি এখানে
উৎসর্গঃ ছোটবেলার গৃহশিক্ষক চট্টগ্রাম বিশববিদ্যালয়ের বামপন্থী মেধাবী ছাত্র নেতা সঞ্জয় তলাপাত্রকে যিনি দাঁড়ি রাখার সুবাদে ‘শিবির’ সন্দেহে চট্টগ্রাম রেইলস্টেশনে ছাত্রলীগের বেদম মার খান, পরে হাসপাতালে মারা যান। ভালবাসা দিবসে ওনার প্রতি ভালবাসা রইল।

আল্লাহর কসম! শিবির সফল হয়েছে

মানুষেরা কি মনে করেছে যে, আমরা ঈমান এনেছি এ কথা বললেই তাদেরকে ছেড়ে দেয়া হবে এবং কোন পরীক্ষা করা হবে না? অথচ আমি তাদের পূর্ববর্তীদেরকে পরীক্ষা করেছি। ঈমানের দাবীতে কারা সত্যবাদী আর কারা মিথ্যেবাদী আল্লাহ অবশ্যই তা জেনে নেবেন। (আনকাবুত-২,৩)

কোন বিপদ কখনো আসে না আল্লাহর অনুমতি ছাড়া, যে আল্লাহর প্রতি ঈমান আনে তিনি তার অন্তরকে সুপথে পরিচালিত করেন। আল্লাহ সর্ব বিষয়ে সম্যক অবগত। (তাগাবুন-১১)

ভালো ছাত্র কি কখনো পরীক্ষা পিছানোর দাবী তোলো? মোটেই না বরং ভালো ছাত্ররা প্রতিক্ষায় থাকে অমন মাহেন্দ্রক্ষণের, নিজের যোগ্যতাকে মেলে ধরার, নিজের মেধাকে শ্রেষ্ঠ বলে প্রমাণের অমন সুযোগের হাতছাড়া করে না কিছুতেই। পরীক্ষা দেখে ভয়ে কাঁপে নপুংশকের দল, নকলবাজের দল, কুলাঙ্গার ছাত্রের দল। জামাত-শিবিরের সামনে আজ এসেছে সেই দিন, এখনই সময় ঈমানের পরীক্ষায় সফল হওয়ার, এখনই সময় ইসলামী আন্দোলনের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের।

মায়ের কাছে কে সবচেয়ে আপন? কার দুঃখে হৃদয় কাঁচের মতো ভেঙ্গে টুকরো টুকরো হয়ে ঝরে যায়? কার মুখের দিকে চেয়ে চেয়ে পৃথিবীর সব দুঃখ কষ্ট, মৃত্যু যন্ত্রণা ভুলে থাকা যায়? অথচ সেই সন্তানকে পৃথিবীর আলো দেখাতে কি পাশবিক কষ্ট সইতে হয় দিনের পর দিন মাসের পর মাস মাকে। দশ মাস দশদিন শেষে যে মৃত্যু যন্ত্রনায় ছটফটিয়ে সন্তানকে বুকে টেনে নেন মা, প্রসব বেদনার ভয়ে মা হওয়ার স্বপ্ন কি বিসর্জন দেয় কোন মা? পৃথিবীর কোন মা কি চান বঞ্চিত হতে মাতৃত্বের স্বাদ থেকে? বরং সন্তান প্রসবে প্রাণ দিয়ে ভালোবাসার গান গেয়ে যান তারা। সে মায়ের কসম, ঈমানের দৃপ্ত শপথে এগিয়ে চলো পরীক্ষার দিকে, সাফল্য তোমাদেরই।

যে ইসলামী আন্দোলনকে ভালোবেসে ঢাকা বিশ্বিবদ্যালয়ে শহীদ হলেন আবদুল মালেক, যে পথে নেতৃত্ব দিয়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ সাব্বির, হামিদ, আউয়ুব, জব্বার, শহীদ হয়েছেন শরীফুজ্জামান নোমানী, হাফিজুল ইসলাম শাহীনের মতো সূর্যসেনার* দল, সে পথে চলতে তবে কিসের ভয়? জেল-জুলুম হুলিয়া হৃদয় কাঁপিয়ে দিতে পারে চোর-ছ্যাচোর আর সন্ত্রাসী জানোয়ারদের, ইসলামী আন্দোলনের কর্মীকে দমাতে পারে এমন নির্যাতনের কৌশল রেখে যেতে পারে নি হিটলার, চেঙ্গিস, ফেরাওন নমরুদের মতো পিশাচের দল। চেয়ে দেখ শহীদ হাফিজুল ইসলাম শাহীনের গর্বিত বাবার দিকে, ঈমানে ঈমানে ফুলে উঠেছে তার বুক। তাহলে কিসের ভয় আল্লাহর সৈনিকের, কিসের ভয় তবে জান্নাতের উত্তরাধিকারীদের। তোমাদের অপরাধ তো এ ছাড়া আর কিছু নয় যে, “তোমরা বল, আল্লাহ আমার প্রভূ, রাসূল (সাঃ) আমাদের নেতা, কুরআন আমাদের সংবিধান”।

আল্লাহর কসম! জামাত শিবির সফল হয়ে গেছে। সফলই যদি না হবে তবে কেন এত যুলুম, শোষণ, নির্যাতন। নির্যাতন ছাড়া জান্নাতের সুবাতাস পেয়েছে কবে কোন কালে, কতজন সৌভাগ্যবান? ভয় কি তবে তোমার, দৃঢ় শপথে এগিয়ে চল, মাথা উঁচু করে ঢুকে পড়ো জেলখানা নামের পরীক্ষার হলে, বুক ফুলিয়ে বরণ করে নাও সকল নির্যাতন। তোমরাই প্রথম নও, তোমাদের আগে আগে চলেছেন লাখো শহীদী মিছিল। জেনে রাখ, তোমাদের বরণ করার অপেক্ষায় পৃথিবীর সর্বকালের সর্ব শ্রেষ্ঠ মানবেরা, যাদের হৃদয় কানায় কানায় পূর্ণ ভালোবাসায়।

*(সূর্যসেনা বলতে সূর্যের মতো তেজষ্মী বোঝানো হয়েছে)

Wednesday 17 February 2010

শিবির চেনার সহজ উপায়

বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর সবচেয়ে বিব্রত ছিল যেই কারনে সে আর কেউ নয় ছাত্রশিবির। ক্ষমতার মসনদে বসেছেন এক বছরের উপরে, অথচ এখনো শিবিরকে রাজশাহী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বের করতে পারেন নাই। তাদের সোনার ছেলেরা প্রতিদিনই আব্দার করে যে শিবিরমুক্ত ক্যাম্পাস চাই। দেশ রত্ন হয়ে এতটুকু আব্দার তিনি রাখবেন না! কিন্তু কি করবেন কোন বৈধ পথ তো খুজে পাচ্ছেন না। তার সোনার ছেলেরা ভার্সিটির কোমলমতি মেয়েদের সাথে নষ্টামী করতে পারছেনা, মদের বোতলে বসে স্বপ্ন দেখতে পারছেনা, শিক্ষককে পেটাতে পারছেনা। কিন্তু এভাবে কি হয় ? তাই নেত্রী একটা সহজ সমাধান খুজছিলেন। তার সেই চিরাচরিত লাশের রাজনীতি। এবারও তিনি বেছে নিলেন মেধাবী এক ছাত্রকে।নিজের পালিত সন্ত্রাসীদের দিয়ে খুন করালেন মেধাবী চাত্রকে আর নির্দেশ দিলেন দেশ থেকে শিবির নির্মুলের। কেন না এই বর্বর কাজ শিবির ছাড়া আর কে করবে? (!!! তাহলে কি প্রধানমন্ত্রী ও শিবির!!!) দেশের বিভিন্ন মেস থেকে অসহায় সহজ সরল কিছু ছেলেকে ধরে নিয়ে গেল পুলিশ। দুষ্ট লোকেরা বলে সেখানে নাকি পুলিশ মানবাধিকার লংঘন করে এই সব ছাত্রদের হাত পা ভেংগে দিচ্ছে। যাই হোক। মেয়ে জামাই হারা নুর মুহাম্মাদ তার বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন যে যেখানে শিবির সেখানেই গ্রেফতার। কিন্তি সমস্যা হল কে শিবির সেটা বুঝবেন কিভাবে? একটা গল্প বলি।

বহুদিন আগের কথা। কোন এক বিশ্ববিদ্যালয়ের বাম পন্থি এক নেতার কথা বলছি। তিনি তার রুমে নতুন বছরের তিনটি ছেলেকে তুললেন । উদ্দেশ্য তাদের তার অনুসারী করে তোলা। সব ঠিকই ছিল। কিন্তু ঘাপলা বাধল অন্য জায়গায়। তিনি আশ্চর্য হয়ে দেখলেন রুমের তিনজন মঝে মধ্যে মসজিদে যাওয়া শুরু করেছেন। থমকে দাড়ালেন কমরেড। এভাবে তো হয় না।তিনি তার সহকারী কমরেডদের সাথে এই ব্যাপারে আলোচনা করলেন। তারা বলল, নিশ্চিত এদের মধ্যে একটা শিবির আছে। কিন্তু কে শিবির? সরাসরি জিগ্গাসাও করতে পারছেন না।তাই তিনি কৌশলের আশ্রয় নিলেন। তিনি জানতেন শিবিরের দুর্বলতা কোথায়। সবকিছু প্লান করে নিলেন আগে থেকেই(রাজশাহীর ঘটনার মত)। তারপর সকালে তার তিন রুমমেট নিয়ে বের হলেন ঘুরতে। কমরেডের ব্যবহার খুবই ভাল ছিল। তাই সবাই তাকে খুব সম্মান করত। ক্যাম্পাসের সামনে যেয়েই সিগারেটের প‌্যাকেট খুললেন। তিনটা নিয়ে দিলেন তিন রুমমেট কে আর একটা নিলেন নিজের মুখে। ওহ ছেলে তিনটার নাসই তো বলা হয়নি। আচ্ছা ধরে নিলাম কামাল, জামাল আর মনির। যাই হোক কমরেডের সিগারেট ধরিয়ে দিয়ে বাকী দুজনেরটা ধরিয়ে দিল মনির। নিজেরটা রাখল হাতে , আর গল্প জুড়িয়ে দিল। কমরেড বলল কিরে মনির সিগারেট খাবিনা? মনির হেসে বলল: জি ভাই খাব, তার আগে একটু ফ্রেস হাওয়া খেয়ে নেই। কমরেডে দৃষ্টি আটকে গেল মনিরের উপর। সে তো আগে খেয়ালই করেনি যে মনির যা বলে বাকী দুজনে তাতে হ্যা হ্যা করে। স্মীত হেসে মনির বলল ভাই ভাবতেছি সিগারেট খেয়ে কি হবে? খামাখা বাপের টাকা নষ্ট করা। বাকী দুজনে মনিরের কথায় সায় দিল। মনির সিগারেট ধরাল। কিন্তু কমরেড মনিরকে নিয়ে এতই ব্যস্ত হয়ে গেলেন যে বাকি দুজন সিগারেট খাচ্ছে কিনা খেয়ালই করলেন না।

হাসলেন কমরেড। কারন তিনি প্রথম পরিক্ষায় সঠিকভাবে মনিরকে শিবির হিসাবে চিহ্নিত করেছেন। তার ধারনা নিজেকে লুকানোর জন্যই মনির পরে সিগারেট ধরাল। এবার তার দ্বিতীয় পরিক্ষা শিবির নিশ্চতকরন।

কমরেড তিনজনকে নিয়ে বসে আছেন। হটাত সুন্দর করে একটা মেয়ে পাশ দিয়ে হেটে গেল। মনির খেয়াল করল সামনে থেকে আর একটা ছেলে আসছে। সে এসে মেয়েটার সাথে গল্প করার চেষ্টা করল। এটা দেখে হটাৎ বিরক্ত হয়ে মেয়েটা দিল চড়। ছেলটা বোকার মত তাকিয়ে থাকল। কিন্তি সে বোঝেই নি। তার জণ্য আরও কি অপেক্ষা করছে। ছেলেটা ১ম বর্ষে নতুন সরকারী দলের কর্মী। সাথে সাথে আশ পাশ থেকে আট দশজন ছেলে ছুটে এসে ছেলটাকে মেয়েকে বিরক্ত করার অপরাধে মার দেয়া শুরু করল। তাদের ধাক্কা ধাক্কিতে মেয়েটা পড়ে গেল মাঠের উপর। এই বার সম্বতি ফিরল কমরেডের , ইশারা করলেন তার অনুচরদের। বললেন মেয়েটাকে ধরে নিয়ে আয়তো। বেচারী অনেক ব্যাথা পেয়েছে। সাথে সাথে হাত লাগাল তার রুমমেটরা। আর কমরেড গভীর ভাবে পর্যবেক্ষন শুরু করলেন আবার। দেখলেন তাদের কার্যকলাপ। মনির সেই আগের মতই নিরুত্তাপ, জামাল সোজা যে মেয়েটাকে ধরল। মনির মেয়েটার এক হাত কোন রকম ধরল। যেন সে খুবই বিব্রত হচ্ছে। ব্যাপারটা দৃষ্টি এড়ালো না কমরেডের। তিনি মুটামুটি এই বার নিশ্চিত। খুব খুশি লাগছে তার। তিনি সফল হয়েছেন। এদিকে কামালের ব্যাপারটা খুবই বিরক্ত লাগল। সে খেয়াল করল ছেলেটার কোন দোষ নাই। তাই সে মেয়েটার পাশ দিয়ে যে ছেলেটাকে বাচানোর চেষ্টা করল। ছেলেটাকে উঠিয়ে নিয়ে পাশে বারান্দায় বসিয়ে দিয়ে চলে এল কমরেডের কাছে। কমরেড মনিরকে নিয়ে এতই ব্যস্ত ছিলেন যে এই ব্যাপার গুলো তার খেয়ালই পড়ল না।
তিনজনকে নিয়ে রুমে ফিরে গেলেন কমরেড। রাত হল, সবাই ঘুমিয়ে পড়ল। ঘুম থেকে উঠে সবাই দেখল হলের সামনে পুড়ছে মনিরের লেপ তোষক। ভেঙগে ফেলা হয়েছে তার টেবিল চেয়ার। কেউ কেউ দেখে হাসল, শিবিরের পরিনতি দেখে আর কেউ বিরক্ত হল। এই সময় সিনিয়র এক ভাই মনিরের হাত ধরে তার রুমে নিয়ে গেলেন। কদিন পরেই দেখা গেল মনিরকে সরকারী দলের বিভিন্ন মিছিলে। মনিরের ঘটনা এই পর্যন্তই।

কিছুদিন পরে এক সন্ধায় অগ্গাত সন্ত্রাসীরা কমরেডের পা কেটে রাস্তায় ফেলে রেখে যায়। অসহায় কমরেড হয়ে যান খোড়া। খোড়া হওয়ার কারনে তার দলে গুরুত্ব কমে যায়। একবারেই একা হয়ে যান কমরেড। কিন্তু তাকে এই অসহায় অবস্থায় ফেলে যায় না কামাল। অনেক সেবা করে সে কমরেডকে। এই কমরেড যে তাকে এক সময় বড় ভাই এর মত ভালবেসেছিলেন। এখন তাকে ফেলে রেখে যায় কি করে?

তারপর এই ঘটনার আর কোন অগ্রগতি পাওয়া যায়নি। তবে শোন যায় যে পরবর্তীতে নাকি কমরেড পাচ ওয়াক্ত নামাজ পড়তেন। তাকে নাকি কেউ কেউ কোরআন ও পড়তে দেখেছে। তার এই পরিবর্তন কিভাবে হল তা সবার কাছেই একটা প্রশ্ন । তবে তার বিপ্লবের কর্মীরা বলে এই সব নাকি অপপ্রচার। কমরেড নাকি এ্কই রকম আছেন। তবে এদেরই কেউ কেউ বলে বিপ্লবের সাথে না থেকে ঘরে ঘুমালে পথভ্রষ্ঠ তো হবেই। ও তো শেষ হয়ে গেছে সেই কবে।
শিবির বাছাই করার প্রক্রিয়াটি কি হবে? সচেতন কেউ এখনও কলম ধরেননি। শিবিরের ছাত্রদের চিনার কিছু লক্ষণ বহুবছর ধরে বাংলাদেশের বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা তাদের মত করে লিখে গেছেন, এখনও লিখছেন। সে সমস্ত মিডিয়ার মধ্যে জনকণ্ঠ অগ্রগন্য। সমকাল, প্রথম আলো, সমকাল, হাল আমলের কালের কণ্ঠ, আমাদের সময় পত্রিকাও ঢুঁ মারছেন। তবে ছাত্রলীগের কর্মী চেনার কোন উপায় তারা কখনও বাৎলে দেননি কিংবা দলীয়ভাবেও প্রকাশ করা হয়নি। অথছ আজ সে বিষয়টি খুবই জরুরী হয়ে পড়েছে। তাই সঙ্গত কারণে ছাত্রলীগ ও শিবির বাছাই করার জন্য কিছু টিপস্ আমি উল্লেখ করলাম হয়তবা ছাত্রলীগ বিচারক কমিটির খুবই কাজে আসবে।

প্রশ্নপত্রে লিখিত ও মৌখিক উত্তরের জন্য হাঁ অথবা না ব্যবহার করতে হবে।
উত্তর হাঁ হলে ছাত্রলীগ উত্তর না হলে ছাত্রশিবির। প্রতিটি প্রশ্নের মান হবে-৪:

১. বিড়ি-সিগারেট খাওয়ার অভ্যাস আছে কিনা?
২. মদ-গাঁজা-হিরোইন খান কিনা?
৩. কানে এম, পি, থ্রি লাগিয়ে রাস্তায়-বাজারে হুইসেলের ন্যায় উচ্চস্বরে গান শুনেন কিনা?
৪. গ্রামের বুড়ো-মুরুব্বীদের কণ্ঠে 'বেয়াদব' শব্দ শুনতে অভ্যস্থ কিনা?
৫. পিতা-মাতা আপনাকে নিয়ে ইজ্জত-সম্মানের দুঃচিন্তায় আছে কিনা?
৬. বয়োজ্যেষ্ঠদের সাথে চোখ রাঙ্গিয়ে কথা বলার সাহস আছে কিনা?
৭. স্কুলের সামনে শত শত মানুষের সামনে সুন্দরী ছাত্রীকে প্রকাশ্য উত্যক্ত করতে পারেন কিনা?
৮. স্কুল-কলেজের শিক্ষককে হুমকি দিয়ে বলতে পারতেন কিনা, স্যার! আবার আমার কান ধরলে কাল থেকে আপনার মেয়েকে রাস্তায় বের হতে দিমুনা।
৯. ধর্ষণের কোন অভিজ্ঞতা আছে কিনা।
১০. গ্রাম্য ও শহুরে গালাগালিতে চরম পারদর্শী কিনা।
১১. পিতা, চাচা-জেঠার উপর হাত তুলতে পারেন কিনা?
১২. বিরোধী মতের কোন সম্মানীত ব্যক্তি দেখলে সাথে সাথেই রাস্তায় কাপড়-চোপড় খুলে উলঙ্গ হয়ে যেতে পারেন কিনা?
১৩. গালাগালি-সমালোচনায় আরো উত্তরোত্তর উন্নতির আশা আছে কিনা?
১৪. আঞ্চলিক ভাষায় গালাগালির ব্যবহার জানেন কিনা?
১৫. টেন্ডারবাজী, সিট দখল, জায়গা দখল করতে সাহস আছে কিনা?
১৬. কখনও খুন খারাবী করেছেন কিনা?
১৭. প্রকাশ্য বলাৎকার করে সাহসের সাথে প্রকাশ্যে বুক উঁচু করে চলতে পারেন কিনা?
১৮. মোল্লা-মৌলভী দেখলে মাথার মেজাজ গরম হয়ে যায় কিনা?
১৯. খালেদা জিয়া অথবা বগুড়ার নাম শুনলে অন্তরে অশ্রদ্ধাবোধ জন্মে কিনা?
২০. শেখ হাসিনা অথবা গোপালগঞ্জের নাম শুনলে অন্তরে প্রশান্তি আসে কিনা?
২১. ভর্তি বাণিজ্যের ডিজিটাল নিয়ম কানুনে সিদ্ধহস্ত কিনা?
২২. আপনার পিতা কিংবা দাদার অন্যের সম্পদ জবর দখলের কোন ঐতিহাসিক ঘটনা আছে কিনা?
২৩. যৌন রোগ আছে কিনা? থাকলে কি কি? নিয়মিত পতিতালয়ে আসা-যাওয়া করেন কিনা?
২৪. নামাজ-রোজা-হজ্ব কখনও পালন করেছেন কিনা?
আমি নিশ্চিত আপনি সফল ভাবে শিবির বাছাই করতে সক্ষম হয়েছেন।







Tuesday 16 February 2010

আওয়ামী লীগের ভন্ডামী রাজনীতি

বর্তমানের সময়ে সবচেয়ে আলোচিত গল্প হল যুদ্ধাপরাধিদের গল্প এই গল্প নিয়েই ৯০ % লোকের পেট চলে এখান থেকে সেখান থেকে গল্প তুলে আর কাল্পনিক ইতিহাস দিয়ে তারা প্রতিদিন কোটিবার যুদ্ধাপরাধিদের বিচার করেন যাক সেটা আমার আলোচনার বিষয় নয় আমি ও কিছু ইতিহাস তুলে ধরব তবে সেটা বানানো নয় বরং শেখ হাসিনার এক সময়ের কলিজা রেন্টুর বই থেকে

বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে প্রধান বক্তব্য যুদ্ধাপরাধিদের বিচার। তারা পারলে আজকেই বিচার করে। প্রতিদিন সভা সমাবেশ করে তারা দেশ নাড়া দিয়ে দিচ্ছেন। তাদের দাবী শিবির তাদের এই সুকর্মের পিছে(সামনে লিখলাম না) এক মাত্র বাধা। যা হোক আমরা একটু ইতিহাম পর্যারোচনা করি।

১৯৯২ সালের ২৬ শে মার্জ জাহানারা ইমামের নেতৃত্বে ঘাতক দালাল নির্মুল কমিটি গোলাম আযমের ফাসি তো প্রায় দিয়েই ফেলেছিলেন। তখন কে ফাসি ঠেকালো?? গোলাম আযমকে গ্রেফতার তো বিএনপিই করেছিল। এই প্রশ্ন কারও মনে উঠতেই পারে্ । তার ফাসি সেদিন কেন হলনা?? কিছু বলার আগে এই ছবিটা দেখুন।



এই মিটিং টা করার সময় নিজামী যুদ্ধাপরাধী ছিলেননা। তাহলে আরও একটা যুদ্ধ হয়ে ৭১ এর পর। সেটার নাম কি??
সত্য জানার সাহস রাখাটাও অনেক বড় ব্যাপার

এবার আসি মুল কাহিণীতে।

গোলাম আযমের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপরাধ কার্যক্রমের অভিযোগে গন আদালতে ফাসির রায় হয়। সেই রায় বাস্তবায়নের দাবীতে শুরু হয় গন আন্দোলন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে জামায়াত এবং আওয়ামীলিগের মধ্যে গোপন বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। তাদের লিয়াজো করেন শেখ হেলাল। তার বাসায় গোপন বৈঠক হয় স্বঘোসিত রাজাকার নেতা গোলাম আযম ও গনতন্তের মানসকন্য মুক্তিযুদ্ধ কন্যা শেখ হাসিনার।
মিটিংয়ে সিদ্ধান্ত হয় গোলাম আযমের ফাসির দাবীতে যেই আন্দোলন তা বন্ধ করার দায়িত্ব শেখ হাসিনার। আর জামায়াতের কাজ হল বিএনপির সাথে সব সম্পর্ক বন্ধ করে সরকার বিরোধি আনদালনে যোগ দেয়া।

প্রতিশ্রুতি রেখেছিলেন দুই নেতাই। নিবিড় এবং আনতরিক সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল এর পর গোলাম আযম এবং হাসিনার মধ্যে। গোলাম আযম মুক্তি পান সেই সময় আর জামায়াত আওয়ামীলীগকে সাহায্য করে ক্ষমতা লাভ করার জন্য।

এখন কেন হটাত আওয়ামী লীগ যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে এত সক্রিয় সেই প্রশ্ন আমার পাঠকদের কাছে।